বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২৬ - ১২:২১
ইরানের ‘শহীদ নেতা’র পথ হাজারো খামেনেয়ীর মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে

‘শহীদ ইমাম’ আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক ইরাকি কবি আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীকে একজন মহান মারজা, সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব এবং কবিতা ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মুসলিম উম্মাহর ইমামের শাহাদাতের পরও তাঁর অনুপস্থিতি অনুভূত হয়নি; কারণ তাঁর বিদায়ের পর হাজার হাজার খামেনেয়ীর আবির্ভাব ঘটেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরাকি কবি মাহদি আল-নাহিরি বলেন, ইরানের ‘শহীদ নেতা’র ব্যক্তিত্ব এতটাই ব্যাপক যে তা ভাষায় সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, তিনি ছিলেন মুসলিম উম্মাহর একজন মুজতাহিদ, মারজা এবং বিশিষ্ট ফকিহ। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তিনি শিল্প, কবিতা ও সাহিত্যের প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন এবং ফারসি ও আরবি কবিতা-সাহিত্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য রুচি ও দক্ষতা ছিল।

আল-নাহিরি জানান, ২০১২ ও ২০২৪ সালে দুইবার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল। সে সময় তিনি ইরানি ও ভারতীয় কয়েকজন কবির সঙ্গে নিজের রচিত একটি কাসিদা তাঁর সামনে আবৃত্তি করেন।

তিনি আরও বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব, যিনি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের দেশ এবং মুসলিম উম্মাহর পক্ষে কাজ করেছেন। এ কারণে ইসলামী ও আরব বিশ্বে তিনি একজন জিহাদি ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সর্বদা মুসলিম বিশ্বের সেবার বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন।

আল-নাহিরি বলেন, তাঁর শাহাদাতের সংবাদ আমাদের হৃদয়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। তবে আমাদের দায়িত্ব শুধু শোক পালন করা নয়, তাঁর পথও অব্যাহত রাখা। তাঁর মতে, এই শাহাদাত এই পথের প্রথম নয়, শেষও নয়। যতদিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলি রাষ্ট্র এবং অন্যান্য শত্রুপক্ষ থাকবে, ততদিন “হাজার হাজার খামেনেয়ী” এই পথ অনুসরণ করবেন।

তিনি জানান, নাজাফে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজায় উপস্থিত থাকার সুযোগ তাঁর হয়েছিল। পাশাপাশি তেহরান, কুম, কারবালা ও মাশহাদে অনুষ্ঠিত জানাজার অনুষ্ঠানও তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনুসরণ করেন।

তিনি বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে ইরানের জনগণ এই অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক উপস্থিতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে-তারা সচেতন, সজাগ ও দায়িত্বশীল একটি জাতি। তাঁর মতে, নানা সমস্যার মধ্যেও ইরানের জনগণ একটি ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতিমনা জাতি, যারা এখনো তাদের নেতৃত্বের আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে।

শেষে তিনি এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের উৎসবে আরও বেশি আরব ও মুসলিম দেশের কবিদের আমন্ত্রণ জানানো উচিত।

তাঁর মতে, কবিরা শিল্প ও সাহিত্যের ভাষায় সত্য তুলে ধরতে এবং সাংস্কৃতিক বার্তা নিজেদের জাতির কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, যেমনটি তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী ইরানের ‘শহীদ নেতা’ সবসময় কবিতা ও সাহিত্যকে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করতেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha